প্রাপ্ত পয়েন্ট

৪১

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: 1 August, 1967
গল্প/কবিতা: ৫টি
Facebook Share
আপনি সহজেই এই লেখাটি ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট করে আপনার বন্ধুদের দেখাতে পারেন!



আগামী সংখ্যার বিষয়

“অন্ধকার”

লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ
২৯ মে, ২০১৩
প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী

আগামী সংখ্যার উপহার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।
প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

মে ২০১২ সংখ্যাঃ প্রিয়ার চাহনি


১৫ মন্তব্য সমূহ  |   ২টি পছন্দ ১৭৫ বার দেখা হয়েছে

কাজল চোখে করাল থাবা

লেখক : মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
জয়া।
আনম্যারেড,
মা হচ্ছে-সেকেন্ড টাইম।
সুধীর ভট্টাচার্যের প্রথম মেয়ে।
শাহেদ সারোয়ার লিটুকে সে ভালোবাসে।

সুধীর বাবুর চার মেয়ে-জয়া, জুঁই, জনা ও জেনি। চার টুকরো চাঁদ-সুধীরচন্দনার ঘরে বড় হচ্ছে। নাচে গানে পড়া লেখায় চন্দনাদির মেয়েগুলোর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে পাশের সব ক’টি গ্রামে-পাড়ায় পাড়ায় সবার মুখে মুখে।
জয়া যখন নাইনে সুধীরবাবুর দু’দিন ধরে জ্বর । গলগল করে বমি করেছে ক’বার। এভাবে তিনি চলে যাবেন কেউ ভাবেনি। বাবুর সৎকারের পর চন্দনাদির চোখ জোড়া অকূল পাথারে যেন ভাসছে। দিদি খেয়াল করেন বাবুর মৃত্যুর পর অনাত্মীয় পুরুষ অতিথির সংখ্যা যেন দিন দিন বাড়ছে তার ঘরে। জনা ও জেনি এখনো ছোট, প্রাইমারিতে পড়ে-তার সাথে স্কুলে আসা যাওয়া। স্কুলের মাস্টারি, মেয়েগুলোর পড়ালেখা, পারিবারিক বিভিন্ন চাপের কথা বলে তিনি জয়া ও জুঁইকে তেমন কোন পুজোপার্বন বা মেলাতীর্থে যেতে দেননা। যেতে হলে নিজেও সাথে যায়; সবাইকে ঘুরিয়ে আনে।
যত দুর্ভাবনা তাঁর জুঁইকে নিয়ে- সবে সেভেনে গেল। গ্রামের অন্য মেয়েদের সাথে সে মেশেনা। কারো সাথে স্কুলে যাবে না। চতুর্দিকে ঝোপজঙ্গলে ঠাসা গ্রামের সর্পিল মেঠোপথ। সাইকেল চালিয়ে আড়াই কিলো রাস্তা পাড়ি দেয় প্রতিদিন, তারপর বিদ্যাপতি বালিকা বিদ্যালয়ের শিমুলগাছটি চোখে পড়ে। সাঁতার কাটবে ছেলেদের সাথে দল বেঁধে, পুকুরের তলে ডুব দিয়ে তুলে আনে মাগুর টাকি কই চিতল । স্কুল থেকে ফিরতে না ফিরতেই আবার ঘুড়ি নিয়ে ভোঁ দৌড়। তালপুকুরের কোণে বসে বড়শি নিয়ে কাটিয়ে দেয় সারাদুপুর বিষণ্ণ বিকেল। দুরন্ত মেয়ে দুর্বার গতিতে গাঁয়ের পথে উথাল পাথাল ঢেউ তোলে। ব্রাহ্মণের মেয়ে, মা স্কুলমাস্টার তাতে কী? বাবা নেই, বড়ো কোন ভাই নেই-তা’কে সে থোড়া কেয়ারও করেনা। এই মেয়ে যেন যমের পথ আগলে দাঁড়ায়। দু’চোখ জুড়ে শুধু অন্ধকার দেখেন চন্দনাদি।

“মা,মাজান, তুমি কেমন আছো, মা?
মা তোমার কোল জুড়ে নেমে আসছে আঁধার রাতের পাপতাড়ুয়া- সোনালি চাঁদ; আসছে এক মহামানব -যিশু, কবির, বৌদ্ধের মত ।
জগতের লাখ লাখ মানুষ তাঁর আদর্শের দীক্ষা নেবে, তাঁর মন্ত্রে শান্তি খুঁজবে অসহায় বিপন্ন মানুষ।
তোমার কোলে নেমে আসছে সে যেন প্রভুমসিহ।
মা, তুমি এই প্রবীণ পৃথিবীর এক ত্রাণকর্তাকে ধারণ করেছ মনের অজান্তে।
মা, এ তোমার পাপ নয়- এ ঈশ্বরের আশীর্বাদ; তোমার দায়িত্ব এখন এঁকে রক্ষা করা, এঁকে বাঁচিয়ে রাখা শুধু।‍‍‍
তুমি এখন মানব ইতিহাসের অনিবার্য অংশ, মা।’’

-স্বপ্নটি শেষ হবার আগেই ঘুম ভেঙ্গে যায় তার -ক্ন্তিু কথাগুলো কানে এখনো বেজে যাচ্ছে ক্রমাগত। সে ম্যালেরিয়া রোগীর মত কাঁপতে থাকে থিরথির করে, তার পুরো শরীর দরদর করে ঘেমে যায়; নাকে কপালে উড়ু বৃষ্টির শ্বেতস্বেদবিন্দু জমতে থাকে যেন। সে একেবারে ক্লান্ত অবষণ্ণ হয়ে পড়ে।
রাত দু’টো।
অচেতন ঘুমের অতল আঁধারে ডুবে ছিল জয়া। দীপান্বিতা চৌধুরি জয়া। সারাদিনের ধকল এখনো সারা শরীর জুড়ে বিড় বিড় করছে- গুড়ানি দিয়ে কেউ যেন পিষে দিয়েছে হাতপা, পিঠপাঁজর, উরুগ্রীবা ও মাথা। এমনিতে শরীর ভালো নেই। প্রচণ্ড বমি আর মাথা ব্যথা কিছুতেই সারছেনা। খেতে অরুচি। শরীরটা যেন পাথরের মত ভারি ভারি লাগে। মনে সংশয়-শঙ্কার ঘুটঘুটে আঁধার জমাট বেঁধেছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে।

লিটুকে সে কিছুতেই ভুলতে পারেনা, ক্ষমা করতে পারেনা, আবার মেনে নিতেও পারেনা তার কোন কথা। জয়া তার কথায় গত বছর অ্যাবরশন করে । ডাক্তার শেফালির কাছে হলি ক্লিনিকে বসে ।
শেফালির নাম শুনলেই তার মনে পড়ে ওটিতে নিয়ে যাবার কথা, খিস্তি খেউড়ের বান যেন-
‘আরে, টানবাজারের মাগি একখান, লজ্জায় ত দেহি বাঁচেনা। এক্কেবারে ঝিম ধইরা রইছে। রত্না, আপারে একডা বেগুন দে। শরীরডা একটু জুড়াই নিক।
খেলায় তো দেখি ম্যাডোনারে হার মানাইছে, পেটখান তো বানে ভাসা মরা গাভির মতো ফুলাইছে, দেখছি। বুঝতে হবেনা, ইনভার্সিটির পাক্কা খেলারাম, আমাগো কমলারে পাইছে ।‘
তখন দুইরাত ক্লিনিকে থাকার পর সন্ধ্যায় সে হলে ফিরেছিল। দুইমাস সে লিটুর সাথে কথা বলেনি, দেখা করেনি। কিন্তু গত মাসে পিকনিকের দিন রাতে একসাথে হলে ফেরার সময় মনের অজান্তে আবার কথা বলা শুরু। লিটুর কাজল কালো চোখের গভীরঘন আবেদনে সে আবার হারিয়ে যায়।
শেফালিকে লিটুই সব খুলে বলেছে-ম্যানেজ করেছে। আর ইদানিং ডাক্তাররাও যেন এরকম অবাঞ্চিত অ্যাবরশনের জন্য মুখিয়ে থাকে। প্রথমে না-না করলেও পরে টাকার অঙ্কটা বাড়িয়ে নিয়ে ঠিকই হাত বাড়ায়, ছুরি চালায় জরায়ুর মুখে-তার মেয়েলি হাতে খুন হয় কুমারীমাতার স্বপ্ন, হয়তো এ খুনের মাধ্যমে দায়মুক্তির স্বাদ খুঁজে কপোতকপোতী দু’জনেই। শুধু ভ্রুণ কেন জীবন্ত মনুষ্যশিশুকে তাদের খুন করতে বাঁধেনা।
সন্ধে নামতে না নামতেই লিটু প্রীতিলতায় আসে-তারা প্রতিদিনের মত হলের গেট পেরিয়ে শহিদমিনারের কাছাকাছি এসে বকুলতলা বসে।
জয়া একান্ত অনিচ্ছায় বেরিয়েছে। আকাশ ধূশর মেঘে ছাওয়া, চারপাশের গাছগাছালিতে ফুরফুরে বাতাসের দোলা নেই। বকুলের ডালে বুলবুলিটি বিষণ্ণ মনে বাচ্ছা দু’টোকে উম দিচ্ছে। দূরের মিনারটি আকাশ ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে আছে সেনবাড়ির তালগাছের মত। মিনারের চূড়োয় একটি মেয়েঘুঘু করুণ বিউগলের সুরে কেঁদে যাচ্ছে। ছেলে ঘুঘুটির জন্য সে কাঁদে, প্রতীক্ষা করে। লিটু প্রতিদিনের মতো জয়ার পাশে বসতে চায়-বসে তার হাত দু’টো আলতো ভাবে তুলে নেবে দু’হাতের মুঠোয়। জয়া আজ পাশাপাশি নয় তার মুথোমুখি বসেছে। জয়া কাঁদছে, আর কঠিন পাথরের মত ঠায় বসে আছে।
‘জয়া, তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমাকে বিশ্বাস করো। না, আর কখনো আমি এই ভুল করবো না। চল-শেফালি ম্যাডামের কাছে যাই।‘
‘না, আমি আর কোন গাইনির কাছে যাবোনা। নিজের ইচ্ছায় নিজের সন্তানকে চোখের সামনে খুন করতে দেবো না।‘
‘তোমাকে বিশ্বাস করে আমি ভুল করেছি, লিটু। তোমাকে বিয়ের কথা বলে আমি নিজের কাছে ছোট হয়ে গেছি। তুমি চাকুরি খোঁজার কথা বলে, বুড়ো বাবামার সম্মতির অপেক্ষার কথা বলে এতদিন আমাকে ঠকিয়েছো মাত্র।‘
‘ আমি বুঝেছি তুমি এতদিন মূলপ্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছো। তুমি তোমার ধর্মের কাছে বন্দি, তোমার প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির শেকলে বন্দি।‘
‘প্রেম তোমাদের অভিনয়, ক্ষণিকের মোহ, তোমাদের স্বদেশ নেই, মনুষ্যত্ববোধ নেই, সংস্কৃতি নেই। জানি, আমার কথায় তুমি আহত হবে। আমি তোমার ভালোবাসায় নিরুপায় বলে কথাগুলো বলে যেতে পারলাম।‘
‘তোমার কাজল চোখের করাল থাবায় শত শত হায়েনা লুকিয়ে আছে-তা তুমি দেখোনি, আমি দেখেছি। তাই তুমি তোমার সন্তানকে অনায়াসে খুন করতে পারো বারবার।‘
‘প্রেম শূন্য তোমার কঠিন হৃদয়। আজ আমি নিশ্চিহ্ণ। আজ আমি মৃত-আমার আর বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তোমাকে কথাগুলো বলা আমার দরকার ছিল-বলেছি। এখানেই আমার শান্তি।‘
‘ তুমি দয়া করে আমাকে আর বিরক্ত করবেনা’- হু হু করে কেঁদে ওঠে জয়া।
তারা চুপচুাপ দশ পনের মিনিট দু’জন বসে থাকে অচেনা মানুষের মতো।
লিটু জয়াকে কোন ভাবে হলের গেটে পৌঁছে দেয়। সে ফিরে আসে আলাওলে।

হঠাৎ চোখ দু’টো আটকে যায় -তখনো মাস্টার্সের ক্লাস পুরোদমে শুরু হয়নি তার। করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণ-শাদাশার্ট টান টান করে ইন করা কালোপ্যান্টের গভীরে। চকচকে কালোজুতোয় সূর্যের আলো টিকরে পড়ছে। সে আবার দেখে; এই ঘনকালো দু’টো চোখ, ছোট ছাঁটাচুল, ক্লিন শেভড ছেলেটি তার যেন চেনাজানা আপন কোন কেউ। এক ধরনের অন্য অনুভূতি পুরো শরীরে দোল দিয়ে যায়। সে আর ক্লাসে ঢুকে না। করিডোরে, একটু দূরে সরে দাঁড়ায়- একটু পেছন করে দাঁড়ায়। যেন অন্য কারো জন্যে অপেক্ষা করছে জয়া। কারো উপস্থিতি টের পেরে ফিরে দাঁড়ায় সে-
‘এক্সকিউজ মি- আপনি কী দীপান্বিতা? আমি লিটু, আপনাদের পাশের স্কুলের শাহেদ সারোয়ার লিটু। আমরা একই কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। শুনেছি আপনি ইকোনমিক্সে আছেন।‘
‘ওকে ফাইন। আমি ইনফ্যাক্ট তোমাকে একবারে চিনি নি। ডোন্ট মাইন্ড প্লিজ। তো, তুমি কোথায় কোন বিষয়ে আছো?’
‘আমি ইংলিশে। অনার্স ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে-এখানে এসে মাস্টার্সে ভর্তি হলাম।‘
‘ফাইন বেশ ভালো লাগলো তোমাকে পেয়ে। একটু তাড়া আছে। ক্লাসে যাই। থ্যান্কস।‘-এইভাবে আঠার মাস আগে তাদের রিলেশনের সূচনা। পহেলা বৈশাখ, পিকনিক, বার্থ ডে, ভ্যালেনটাইনস ডে এই সম্পর্ককে আরো গভীরে নিয়ে যায়। ভালোবাসার ডুবসাঁতারে ভিজতে থাকে দুজন তরুণ তরুণী -মনের অগোচরে।
জয়ার আর ঘুম আসেনা। প্রতিদিনের কথাগুলো ছবিগুলো চলচ্চিত্রের পর্দার মতো ক্রমান্বয়ে ভাসতে থাকে মনের ক্যানভাসে।

জব এগজাম,
ফাইনাল এগজাম,
মাম এগজাম-এক জীবনে কত এগজাম যে দিতে হয়!
গত কয়েক মাসে অসংখ্য এগজাম সে দিয়েছে। আজকের এগজামটাই তার জীবনের শেষ এগজাম। সে এই মাতৃত্বের পরীক্ষায় পাশ করতে চায় যে কোন ত্যাগের বিনিময়ে। এটি তার শেষ এগজাম । আজকেও নাকি একটা কার্ড এসেছে। বাহ! সে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারে না।

ঘড়ির কাটা এখন তিনের ঘরে।
আবার হাই তোলে সে-টানা দীর্ঘহাই। শরীরটা ঝড়ের তোড়ে নেতানো বাঁশের মত ঢুলে পড়ছে। চোখ দু’টো মার্বেলের মত ভারি হয়ে আসে।
ধীরে ধীরে লকার খুলে ভ্যালেনটাইনস ডে-র কেনা মেরুন শাড়িটি পরে। কপালে লালসূর্যটি আঁকে একমুহূর্তে। নববধূর অপূর্বমুরতিতে জেগে ওঠে তার দেহমন। আবছা আলোতে দেয়ালের বড় আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নেয়। সন্তর্পনে দরজার সিটকিনিটা খোলে। মুঠোফোনটা অফ করে। ৩০৩ নম্বর রুম থেকে বেরিয়ে আসে ছাদে।

কৃষ্ণপক্ষের গভীররাত। বুনো অন্ধকার।
খোলা আকাশের নিচে নববধূর পোষাকে নিমগ্ন নিশাচর এক তরুণী। পুরো ছাদে একা হাঁটে, একা কাঁদে, একা শিস দেয়। থপ থপ তালি দেয় আবার। তালিগুলো মুক্ত ছাদে মিশে যায়। হাওয়ার দোলে নিসর্গের কোলে সে শুনতে পায় মৃত্তিকার মুক্তির ডাক, সবুজ ঘাসের আলিঙ্গনআহ্বান।
রুক্ষপথ- বন্ধুরযাত্রার স্মৃতি তাকে পোড়ায়, তাড়ায়। শিহরিত হয়। সচকিত হয়।
দূর গগনের অপার নিলীমায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নক্ষত্ররাজি নিজস্ব দীপ্তিতে টিম টিম করে জ্বলতে থাকে; নিভে আর জ্বলে।
নিক্ষিপ্ত উল্কার তীক্ষ্ণ দ্যুতিতে নিজেকে দেখে আতঙ্কিত হয়।
দূরের শহিদমিনার এখনো আকাশ ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে আছে সটান গ্রীবায়।
কয়েকটি লক্ষ্মীপেঁচা বার বার ডাকতে থাকে আকাশমণির পাশে-মেহগনি বনে।
তিনতলার অপর প্রান্তে হলের বুড়ো গার্ড মফিজ মিয়া কাশতে থাকে-
ঘনকফ আটকে আছে বুকের গহনে, শাদাদাড়িতে টিকরে পড়ে আলোক রশ্মির ঝিলিক-পর পর বাঁশির শব্দে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে আসতে থাকে সে।
জয়া এক দৌড়ে রুমে।
ড্রয়ারটা টান দেয়।
লম্বা খামটি খুলে তার চোখ ছানাবড়া-তাকে ডাকছে অন্যপৃথিবী। লালরঙা কাপড়ের ব্যাগে ভরে নেয় কিছু কাপড়চোপড় টুকিটাকি জিনিসপত্তর। দীর্ঘ দশঘণ্টা জার্নি- জীবনগাড়ি থামে, জীবনের নতুন এক ক্যাম্পাসে-ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
বিশাল পৃথিবীর এই এক কোণায় আলোর সাথে গলাগলি করে, হাওয়ার সাথে কোলাকুলি করে স্বপ্নসাহসে আবার মেতে ওঠে সে।
বিজ্ঞপ্তিঃ এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
১৫ মন্তব্য সমূহ
  • বিন আরফান. এটা পছন্দ করেছে
  • ফয়সাল বারী
    ফয়সাল বারী অসাধারণ একটা গল্প লিখেছেন ভাই।
    ২৮ মে, ২০১২
  • বিষণ্ণ সুমন
    বিষণ্ণ সুমন অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় উপাদানের এক বিরাট সমাহার মিলল এই অসাধারণ গল্পটিতে । গল্পকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ।
    ২১ মে, ২০১২
  • মোঃ আক্তারুজ্জামান
    মোঃ আক্তারুজ্জামান চমত্কার সাবলীলতায় লেখা খুব সুন্দর গল্প|
    ২০ মে, ২০১২
  • মামুন ম.আজিজ
    মামুন ম.আজিজ লেখার স্টাইলে একটা ভিন্নতা অনুধাবনীয়। বেশ।
    ২০ মে, ২০১২
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া চেনা জানা কাহিনী , বেশ ভালই তো লাগলো .........উপস্থাপনা চমৎকার ।
    ২০ মে, ২০১২
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar