লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: 1 March, 1980
গল্প/কবিতা: ২৩টি
ভোট দেয়ার পূর্বে অন্তত দশটি গল্পকবিতা পড়ুন তারপর মান অনুযায়ী ভোট দিন । নতুবা আপনি ভালো লেখকের সাথে বেইনসাফি করলেন । এতে তারা নিরুত্সাহিত হবে । সবচেয়ে বড় কথা বিচারকরা পরকালে কঠিন বিচারের সম্মুখীন হবে ।

লেখকের সব গল্পকবিতা

রঙের বাজার

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ
এপ্রিল ২০১১

ক্রিকিট আমার অমাবস্যার চাঁদ

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ
এপ্রিল ২০১১

বৃষ্টির প্রতিক্ষায়

বৃষ্টি
আগস্ট ২০১২

আমার স্ত্রী মা হয়েছে

গর্ব
অক্টোবর ২০১১

মালিক শ্রমিক বন্ধুত্ব

বন্ধু
জুলাই ২০১১

বৈশাখ

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ
এপ্রিল ২০১১

রসগোল্লায় বিষ

বাংলা ভাষা
ফেব্রুয়ারী ২০১৩

ভয়

ক্ষোভ
জানুয়ারী ২০১৪

কোথায় গেল সেই কাল

মা
মে ২০১১

রসকষ

প্রিয়ার চাহনি
মে ২০১২

মুক্তির চেতনায় মতিউর

মুক্তির চেতনা
মার্চ ২০১২

ক্ষুৎপীড়িত

ক্ষুধা
সেপ্টেম্বর ২০১১

সময় বদলাবে

বাবা
জুন ২০১২

একুশ

২১শে ফেব্রুয়ারী
ফেব্রুয়ারী ২০১২

একদিন জাগবে বাঙ্গালি

গর্ব
অক্টোবর ২০১১

বকবাকুম

বিশ্বকাপ ক্রিকেট / নববর্ষ
এপ্রিল ২০১১

দেশ প্রেমিক

স্বাধীনতা
মার্চ ২০১১

বহুরুপ

বর্ষা
আগস্ট ২০১১

রয়েল বেঙ্গল কেট

ক্ষোভ
জানুয়ারী ২০১৪

বঙ্গলিপি

স্বাধীনতা
মার্চ ২০১১

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা
মার্চ ২০১১

বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীনতা

স্বাধীনতা
মার্চ ২০১১

পিতৃভক্তি

কষ্ট
জুন ২০১১

সমন্বিত স্কোর

৫.০২

বিচারক স্কোরঃ ২.৮৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১৩ / ৩.০

ফেব্রুয়ারী ২০১২ সংখ্যাঃ ২১শে ফেব্রুয়ারী


৬৫ মন্তব্য সমূহ  |   ১টি পছন্দ ৩৭২ বার দেখা হয়েছে

বাঙলার পাগল

লেখক : বিন আরফান.
মকুলে মুকুলে পরিপূর্ণ চারপাশের আম গাছ গুলো। কিছু গাছে ছোট ছোট আম ধরেছে। ঝড়েও পড়ছে বেশ। পাড়ার ছেলেমেয়ে আম কুড়াতে এ গাছ থেকে ও গাছ ছোটাছুটি করছে। কখনো দলবেঁধে , কখনো দল ছাড়া।

ত্বসীন সঙ্গীদের ছেড়ে নির্জন এক গাছের নিচে আম কুড়াচ্ছে। কি যেন দেখে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়। সে দেখে, ঝটবাধা লম্বা চুল, এলোমেলো দাড়ি গোফ, কাঁধে থলে, পাটের চট পড়া এক লোক আম গাছের উপরে তাকিয়ে বলছে, আবার বলো, আবার বলো। লোকটির এরূপ আচরণ দেখে ত্বসীন অট্রহাসি দেয়। মুহুর্তেই উচ্চস্বরে ধমক। চুপ।

ত্বসীন ভয়ে চুপ। গোটা পরিবেশ নিঃশব্দ। খানিক সময় পর কানে ভেসে আসে বউ কথা কও, বউ কথা কও। একটি পাখি এরূপ শব্দে ডাকছে। লোকটিও তার সাথে তাল মিলাতে থাকে বউ কথা কও, বউ কথা কও। ত্বসীন আবারো খিলখিল করে হেসে উঠে। এতে লোকটি ত্বসীনকে তেড়ে আসার ভান করতেই ত্বসীন চেচিয়ে শব্দ করতে শুরু করে পাগল পাগল।

আশেপাশে অবস্থানরত বন্ধুরা ত্বসীনের চিৎকারে ছুটে আসে। পাগলকে দেখা মাএই তাদের মধ্যে আনন্দের উল্যাস দেখা যায়। কেননা তারা পাগল পেয়েছে। তারাও জপতে থাকে পাগল পাগল।

ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সামনে পাগল পড়লে যা হয় তাই হচ্ছিল। কেহ দৌঁড়ে কাছে গিয়ে গায়ের চাদর ধরে টানে, কেহ থলে ধরে আবার কেহ কুড়ানো আম দিয়ে ঢিল ছুড়ে। বিরক্ত হয়ে লোকটি কয়েকবার ধাওয়া করে কিন্তু এতে কোন সুফল হয়না বরং শিশুরা আরও বেপরোয়া হয়ে পড়ে।

এক অবুঝ শিশু লোকটির চোখের ঠিক সামান্য নিচে পাথর দিয়ে ঢিল ছুড়ে। লোকটি করুণ এক শব্দ করে মাথা নিচু করে মাটিতে বসে যায়। এ সুযোগে কয়েকজন লোকটির থলে নিয়ে দৌঁড় দেয়। তারা থলের ভেতর তেমন কিছুই পায়না। শুধু হলুদ রঙের বড় আয়তকার একটি কাগজ দেখতে পায়, যাতে লেখা রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই। শিশুরা থলে ফেলে কাগজটি নিয়ে চলে যায়।

বেশ কিছুক্ষণপর সে পথ দিয়ে এক ভদ্রলোক হেটে যাচ্ছিল। সে দেখে পাগল লোকটি ব্যথা, ব্যথা বলে ধীর শব্দে আর্তনাদ করছে। ভদ্রলোকের মায়া হল। সে পাগলের কাছে গিয়ে জানতে চায়, এক্সকিউজমি, আপনার কি খুব পেইন হচ্ছে ? একথা শোনে পাগল মাথা তুলে ভদ্রলোকটির দিকে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। ভদ্রলোক দেখে, পাগলের চোখের নিচ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। সে পরম মমতায় পাগলের মাথায় হাত বুলায়ে বলে, অহ নিশ্চয় এটি আনসিভিলাইজড চিলড্রেনদের কাজ। ভদ্রলোকের হাত বুলানো শেষ হতে না হতেই পাগলের চোখ বেয়ে পানি ঝড়তে থাকে। ভদ্রলোকটি জিজ্ঞাসা করলেন, হুয়াই ক্রাইং ? পাগল উত্তর দেয়, কিছুক্ষণ আগে ব্যথাটা গায়ে ছিল, এখন অন্তরে বিধেছে।

শিশুরা যখন আমাকে পাগল পাগল বলে চিৎকার করছিল আমি তাদের এই জন্যই ক্ষেপিয়েছিলাম যেন শব্দটি বারবার বলে। কেননা পাগল খাঁটি বাঙলা শব্দ। আর শিশুদের আচরণে আমি মোটেও দুঃখ পাইনি কারণ এই আচরণ বাঙালির ঐতিহ্য, এটাই সভ্যতা, এর নাম ছেলেখেলা, যা আমিও ছোটবেলা করেছি। বাঙলায় হেসেছি, বাঙলায় কেদেছি, বাঙলা বলে বলে ছুটেছি, রাষ্ট্রভাষা বাঙলার জন্য লড়েছি, আজও বাঙলাকে বুকে ধরে আছি। এ বাঙলার জন্যই পাগল হয়েছি। আর আপনি বাঙলিশ বলছেন !

লোকটির কথাগুলো চলার সময় পাখির কণ্ঠ হতে আবার ভেসে আসে বউ কথা কও, বউ কথা কও। পাগল, পাখির পাখির আওয়াজ স্বরণ করিয়ে দিয়ে ভদ্রলোকের উদ্দেশ্যে বলে, ঐ শুনুন, পাখিটি তাঁর ঐতিহ্য আজও বুকে পুশে সংকোচহীন কন্ঠে গাইছে বউ কথা কও। এই বলে যেই আঙুল দিয়ে উপরে ইশাঁরা করে তখন পাগল দেখে, তাঁর লেখা হলুদ কাগজটি ঘুড়ি হয়ে আকাশে উড়ছে ‘রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই’।

দেখা মাত্রই পাগল খুশিতে যেন আত্মহারা। সে ঘুড়ির পিছু পিছু ছুটছে আর বলছে, উড়াও! উড়াও!! এভাবেই বাঙলাকে সারা বিশ্বে পৌঁছে দাও। তোমরা শিশুরাই পারবে বাঙলাকে বিশ্ব দরবারে গৌরবের সাথে তুলে ধরতে।
বিজ্ঞপ্তিঃ এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
৬৫ মন্তব্য সমূহ
  • সোহেল সামি এবং আশিক বিন রহিম এটা পছন্দ করেছে
  • রওশন জাহান
    রওশন জাহান কেন যেন মনে একটি ক্ষীন আশা ছিল এই লেখাটি বিচারকের মনযোগ আকর্ষণ করবে এবং বিজয়ী হবে । আশাহতই হলাম। কি আর করা। লেখকের কাছ থেকে এমন লেখাই সামনে চাই।
    ১৮ মার্চ, ২০১২
  • মনির মুকুল
    মনির মুকুল সব পাগল যেমন পাগল নয় তেমনি সব অনুগল্পই অনু পরিধির নয়। দারুণ লিখেছেন।
    ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • M.A.HALIM
    M.A.HALIM চমৎকার খুব ভালো লাগলো। বন্ধুর জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
    ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • রওশন জাহান
    রওশন জাহান অত্যন্ত চমৎকার লেখা । বাঙালির মর্মমূলে ছুঁয়ে যাবে এর অন্তর্নিহিত অর্থ। অনেক অনেক ভালো লাগলো । লেখনী, বর্ণনা ভঙ্গী, ভাষার ব্যবহার সব মিলিয়ে বেশ ভালো হয়েছে। লেখকের জন্য শুভকামনা থাকল।
    ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
    বিন আরফান. এর চেয়ে আনন্দ আমি লেখার জগতে পাইনি বোন. চোখে জল চলে এলো. জীবনে সুখী হোন. @ রওশন জাহান
    ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
  • জালাল উদ্দিন মুহম্মদ
    জালাল উদ্দিন মুহম্মদ ভাবনার সূতোটা বেশ শক্তিশালী। ভালো লাগলো । ধন্যবাদ।
    ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
    বিন আরফান. আপনাকেও ধন্যবাদ সুন্দর দৃষ্টিতে গল্প পড়ে বিচক্ষণ ব্যক্তিত্বের মত সমালোচনা করায়.
    ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar