বোবা গোঙানি / [ চক্রবৃদ্ধি অস্থিরতা ]
এই কণ্ঠে তোমাকে তুলে আনতে পারলাম না আজোবধি,
পারলাম না তোমাকে বিভিন্ন বিন্যাসে প্রিয়তমার কানে তুলে দিতে
অথবা মায়ের কোলে মাথা রেখে তোমার আশ্রয়ে দুটো গল্প শোনাতে কোনোদিন ।
বুকের এক পাশে আজো বাসা বেধে আছে সেই লজেন্স চুরির গল্পটা,
বসে বসে ভাবি তোমাকে স্বার্থপর, অথবা পক্ষদুষ্ট
কষ্ট নিও না তুমি ।
মাঝে মাঝে তলপেটটা চেপে পূর্ণদ্যমে তোমাকে ডাকি
ভাবি, এই বুঝি তুমি বেরিয়ে এলে !
এই বুঝি তুমি অভিমান ফেলে কণ্ঠে উঠে এলে এখুনি, স্বর অথবা ঈশ্বর হয়ে!
বার বার ভাঙ্গে ভুল, ভাঙ্গে স্বপ্ন দিবালোকে
শুধু বোবা গোঙানি বেজে উঠে ওই পুরনো রেকর্ডারে,
সাথে আড়ষ্ট কণ্ঠ পাপের শাস্তি বয়ে চলে অনন্ত...
ইদানীং ক্যালেন্ডারটা ভালোই বুঝি, ভালোই বুঝি দিন বদল
মেপে মেপে চৈতন্যোদয় দেখি অবাক বাঙালির!
দেখি একুশ এলেই ফুলেল আবেগের বাৎসরিক পশরা
আর নিথর মিনারে কঙ্কনধারীদের সুমধুর কলতান, সাথে বিচ্ছিন্ন আবেগ।
সবই চলে চব্বিশ ঘণ্টার তরে, মেপে মেপে পেন্ডুলাম..
যেন এক আনন্দ চক্র, ঘড়ির কাঁটা মেপে!
এই পশরায় বড় বেমানান থাকি প্রতিবার, উচ্ছিষ্ট বা অবশিষ্ট...
নেই কণ্ঠে শ্লোগান, নেই পরিপাটি সাজ অথবা গাদা ফুল বিস্তর!
আবেগের বাহ্যিক প্রকাশ হিসেবে শুধু হাত দুটো ছুরি এলোপাথাড়ি
আর অনুভব করি একের পর এক 'কিক অ্যাজ' অ্যান্ড 'কিক অ্যাজ'!!
ফুল হাতে ভদ্রলোকেরা গালি দিয়ে বলে, 'ব্যাটা বধিরের বাচ্চা, জলদি সর'
মনে মনে বেশ শান্তিই লাগে! ওটা যে গালি নয় আমার জন্য, জানে না বেকুবের দল।
ভাবি বসে একা অন্তরীণে-
এই ভাষা দিবসে তবে এক ভাষাহীনের এত অস্থিরতা কিবা প্রয়োজন?
[ ধীরে ধীরে রাত শেষে ভোর আসে,
শেষ হয় 'গানে গানে ভরা আরেকটি একুশ', জীবনের পাতা থেকে।
বছর ভিত্তিক ক্যালেন্ডারের তলে চাপা পরে চেতনা
আর ধুলোয় ঢেকে যেতে শুরু করে মিনারের প্রাঙ্গণ,
নতুন কোনো 'তারিখ' শাণিত হতে থাকে ক্যালেন্ডার মেপে মেপে। আ-বা-রো!! ]
** বি: দ্র: শেষের প্যারা বাদ দিলে কবিতার নাম "বোবা গোঙানী", শেষের প্যারা সহ কবিতাটির নাম "চক্রবৃদ্ধি অস্থিরতা".. যতটুকু পড়তে বন্ধুদের ভালো লাগে.. ধন্যবাদ সবাইকে
বিজ্ঞপ্তিঃ এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।
মেপে মেপে চৈতন্যোদয় দেখি অবাক বাঙালির!
দেখি একুশ এলেই ফুলেল আবেগের বাৎসরিক পশরা
আর নিথর মিনারে কঙ্কনধারীদের সুমধুর কলতান, সাথে বিচ্ছিন্ন আবেগ।
সবই চলে চব্বিশ ঘণ্টার তরে, মেপে মেপে পেন্ডুলাম..
যেন এক আনন্দ চক্র, ঘড়ির কাঁটা মেপে! , লাইনগুলো খুব স্পর্শ করেছে ।