ঈর্ষা--
* দুনিয়াতে এমন কতক লোক আছে, তাহারা মানুষের সুখদর্শনে ঈর্ষা করে দোষদর্শনে আঙুল প্রদর্শন করিয়া পঞ্চোক্তি ব্যক্ত করিতেও একদণ্ড পশ্চাৎপদ হন না! তাহাদের স্বভাবচরিত্র এতটাই অনুন্নত যে, তাহারা গিনিস্বর্ণকেও গিলটি বানাইয়া ছাড়ে।
* বড়লোককে খোশামোদ আর দরিদ্রকে উপেক্ষা--এ দুই লোক আমার চক্ষুশূল।
* মানুষের দরদে যে সমবেদনা জানায় না, সে মানুষ হতে পারে না।
* চার প্রকারের মনিষ্য হতে আমি সব সময় দূরে থাকি : প্রথমত--হিংসুক। দ্বিতীয়ত--অহঙ্কারী। তৃতীয়ত--কৃপণ। চতুর্থ--লোলুপ। এই চার ইনসানের ছত্রছায়ায় যার বাস তার সংস্পর্শেও নরকবাস। আমি জীবনে কোনদিন ঈর্ষান্বিত হই নি। আমিত্ব এবং কার্পণ্যের করিডোরে কখনো পদার্পণ করি নি। লোলুপাশ্রম আমার থেকে সহস্রাব্দ পথের ব্যবধান--তবু আমি মানুষের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত!
* কার্পণ্যকে আমি সব সময় ঘৃণা করেছি তবু কৃপণেরা আমাকে নিজের মতো ভাবে!
* উদারতাকে আমি এত ভালবাসি তবু কৃপণেরা আমাকে ঈর্ষাচোখে চায়!
শত্রু--
* দশ জন মূর্খের বন্ধু হওয়ার চেয়ে এক জন জ্ঞানীর শত্রু হওয়া উত্তম।
* শত্রুকে পরাজয় করতে হলে শক্তির চেয়ে কৌশলাবলম্বন বেশি প্রয়োজন।
* শত্রু যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, তাকে দমন করা যায়, তবে আঘাত দিয়ে নয়--দরদ দিয়ে।
* শত্রু নগণ্য হলেও--শত্রু। শত্রুকে কখনো ক্ষুদ্র ভাবা উত্তম নয়। সামান্য একটা মশক কখনো-কখনো বৃহৎকায় একটি হাতীকেও পঙ্গু করে দিতে পারে; তেমনই একজন নগণ্য শত্রু কখনো-না-কখনো মহাসংকটে ফেলে দিতে পারে। তাই শত্রুকে কমজোর মনে করা নির্বুদ্ধিতার পরিচয়।
* দুর্জনের শত্রুতা হোঁদড়ের চেয়েও হিংস্র, সুজনের শত্রুতা পদ্মপাতার পানির মতো টলোমলো।
* বড় লোকের শত্রু বেশি কিন্তু গরিবের মিত্র কম।
* শত্রুকে যে সব সময় ঘৃণার চোখে চায়, তার চেয়ে নিকৃষ্ট মানব পৃথিবীতে আর কেউ নেই।
* শত্রুকে ভালবাসা সুজনের কাজ--দুর্জনের পক্ষে তা অসম্ভব।
* একমাত্র শত্রুকে দমন করা সহজ কিন্তু অসংখ্য শত্রুকে দমন করা কঠিন।
* ভাই-বন্ধু যতই হোক চরম শত্রু আমার
আমি তবে গাইব গান পরম মিত্রতার।
* আমি রাগ করি তবে আজীবন শত্রুতামি রাখি না গেঁথে মনে।
* তোমার সঙ্গে আমার কী শত্রুতা জানি না, আজীবন আমার জন্যে কেবল গর্তই খোঁদে গেলে!
* শত্রুকে বন্ধু ভাবা মহত্ত্বের পরিচয় কিন্তু বেঈমানকে নয়।
* মুনাফেকের লক্ষণ শত্রুতা--ঈমানদারের লক্ষণ সহিষ্ণুতা।
Comments